প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
দিলদারের পর বাংলা কমেডিতে নতুন সম্ভাবনার নাম চিকন আলী
মো: পলাশ তুষার পাঠান , বিনোদন ফিচার লেখক ||
বাংলা চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়ের কথা উঠলেই যে নামটি
দর্শকের মনে সবার আগে আসে, তিনি দিলদার। তাঁর অনন্য অভিনয়শৈলী, সংলাপ বলার ধরন এবং স্বতন্ত্র হাস্যরস বাংলা সিনেমার দর্শকদের দীর্ঘদিন আনন্দ দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলা
কমেডি জগতে যে শূন্যতা তৈরি
হয়েছে, তা পূরণ করা সহজ নয়।তবে সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টায় নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী নিয়ে এগিয়ে চলেছেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা চিকন আলী। নিজের অভিনয়, সংলাপ, শারীরিক অভিব্যক্তি এবং কমেডির নিজস্ব ধরন দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি সফলও হয়েছেন।চিকন আলীর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি
হলো- তিনি শুধু সংলাপের মাধ্যমে হাসান না; তাঁর
চেহারার অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা, কথা বলার ধরন এবং পরিস্থিতিকে হাস্যরসে রূপ দেওয়ার ক্ষমতা দর্শকদের আকৃষ্ট করে।কৌতুকের আড়ালে একজন সৃজনশীল নির্মাতাদর্শকের কাছে চিকন আলী মূলত একজন কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর সৃজনশীলতার পরিধি আরও বিস্তৃত। তিনি শুধু অন্যের লেখা বা তৈরি
করা গল্পে অভিনয় করেই থেমে থাকেননি। নিজের ভাবনা ও পরিকল্পনা থেকে
নাটক নির্মাণেও যুক্ত হয়েছেন।নিজের কমেডি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য তিনি নিজেই নাটক নির্মাণ করেন। গল্প, চরিত্র, হাস্যরস এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নানা পরিচিত ঘটনা—এসবকে কেন্দ্র করে তৈরি তাঁর নাটকগুলো দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের দর্শকদের মধ্যে তাঁর নির্মিত কমেডি নাটকের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য। সহজ ভাষা, পরিচিত চরিত্র, স্থানীয় জীবনযাত্রার নানা ঘটনা এবং হাস্যরসের উপস্থাপনা তাঁর নাটকগুলোকে সাধারণ দর্শকের কাছে সহজেই পৌঁছে দিচ্ছে।সাধারণ মানুষের হাসির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কচিকন আলীর সাফল্যের অন্যতম কারণ তাঁর অভিনয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের পরিচিত চিত্র উঠে আসে। তাঁর চরিত্রগুলো অনেক সময় এমন হয়, যেগুলোর সঙ্গে
দর্শক নিজেদের চারপাশের মানুষকে মিলিয়ে নিতে পারেন।গ্রামবাংলার ভাষা, মানুষের স্বাভাবিক আচরণ, সামাজিক নানা অসংগতি এবং দৈনন্দিন জীবনের হাস্যকর পরিস্থিতিকে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরেন। ফলে তাঁর কমেডি শুধু হাসির উপকরণ হয়ে থাকে না; অনেক
সময় সেখানে সমাজ ও মানুষের জীবনযাপনের পরিচিত চিত্রও ফুটে
ওঠে।দিলদারের উত্তরসূরি হওয়ার চ্যালেঞ্জদিলদার ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কৌতুক অভিনয়ের এক অনন্য
কিংবদন্তি। তাঁর জায়গা পূরণ করা কোনো অভিনেতার পক্ষেই সহজ নয়। তাই চিকন আলীকে দিলদারের সঙ্গে তুলনা করা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি এই তুলনা
তাঁর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জও।তবে চিকন আলীর বিশেষত্ব হলো, তিনি দিলদারকে অনুকরণ করে জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং নিজের চেহারা, অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন এবং কমেডির নিজস্ব স্টাইল তৈরি করেছেন।দর্শকের ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের কাজের
মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলা কমেডি জগতে তাঁর নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে। দিলদারের শূন্যতা পূরণের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও চিকন আলীর সবচেয়ে বড় অর্জন—তিনি নিজেই একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন।অভিনেতার পাশাপাশি নির্মাতাবর্তমান সময়ে একজন শিল্পীর জন্য শুধু অভিনয় জানাই যথেষ্ট নয়। দর্শকের রুচি ও বিনোদনের মাধ্যম বদলে
যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৃজনশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চিকন আলী এই পরিবর্তনটি বুঝতে
পেরেছেন।তাই অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণের কাজেও নিজেকে যুক্ত করেছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নাটক নির্মাণের মাধ্যমে তিনি নতুন গল্প, নতুন চরিত্র এবং নতুন ধরনের কমেডি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন।এটি তাঁর সৃজনশীল মানসিকতারই পরিচয়। একজন অভিনেতা যখন নিজের চরিত্রের বাইরে গিয়ে গল্প, নির্মাণ ও দর্শকের বিনোদনের বিষয়
নিয়ে ভাবেন, তখন তাঁর কাজের পরিধি আরও বড় হয়।
চিকন আলীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট।দর্শকই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তিচিকন আলীর জনপ্রিয়তার বড় কারণ
তাঁর দর্শক। শহরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জের মানুষও তাঁর অভিনয় ও কমেডি
নাটক উপভোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের মাধ্যমে তাঁর
কাজ এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।তাঁর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, ভালো কমেডির জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। একজন দক্ষ শিল্পী সাধারণ গল্প, পরিচিত চরিত্র ও স্বাভাবিক অভিনয়ের মাধ্যমেও দর্শককে আনন্দ
দিতে পারেন।
চিকন আলী সেই কাজটিই করে চলেছেন।বাংলা কমেডি অভিনয়ের ধারায় দিলদার ছিলেন এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর
পরবর্তী সময়ে এই ধারাকে জনপ্রিয় রাখার
ক্ষেত্রে চিকন আলীর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে নাটক নির্মাণ এবং সাধারণ দর্শকের কাছে তা পৌঁছে
দেওয়ার মাধ্যমে তিনি শুধু একজন কৌতুক অভিনেতা নন, বরং
একজন সৃজনশীল বিনোদনকর্মী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।হাসাতে পারা সহজ নয়। আর দীর্ঘদিন ধরে
দর্শককে হাসিয়ে যাওয়া আরও কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই নিজের স্বতন্ত্র প্রতিভা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে করে
চলেছেন চিকন আলী।বাংলা কমেডির জগতে তাই তাঁর পথচলা শুধু একজন অভিনেতার পথচলা নয়; এটি
একজন সৃজনশীল শিল্পীর নিজস্ব পরিচয় তৈরির গল্প।
কপিরাইট © ২০২৬ City News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত