প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
গণপূর্তের এক প্রকৌশলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি
মো: আশিকুর রহমান আশিক, স্টাফ রিপোর্টার ||
ঢাকা, ৪ আগস্ট: গণপূর্ত
অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে
বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাব খাটানো, বদলি-পদায়ন ও
সরকারি কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ
উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে
রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে
প্রভাব বিস্তার এবং জ্ঞাত আয়ের
বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বদরুল
আলম খানকে ঘিরে নানা বিতর্ক
তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত
সার্কেল-১–এর গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্বে রয়েছেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত
অধিদপ্তরের বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও ঠিকাদারি কাজের
প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব বিস্তারের
চেষ্টা ছিল। কয়েকজন কর্মকর্তা
দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে
তার ভূমিকা নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে
আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের
স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।পদায়ন
নিয়ে
প্রশ্নঅভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা
গণপূর্ত সার্কেল-১–এ তার
পদায়ন নিয়ে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে
আলোচনা তৈরি হয়। অভিযোগকারীদের
দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদায়ন
নিশ্চিত করেন।এ ছাড়া বিভিন্ন
সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের
সঙ্গে তার যোগাযোগ ব্যবহার
করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের
বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি তদন্ত
প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত
পাওয়া যায়নি।সম্পদ
নিয়ে
অভিযোগদুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)
জমা দেওয়া একটি অভিযোগের বরাত
দিয়ে বলা হয়েছে, বদরুল
আলম খান চাকরির বিভিন্ন
পর্যায়ে ঠিকাদারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট
কাজে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে তার ও পরিবারের
সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান, জমি, ফ্ল্যাট ও
আর্থিক সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা
হয়েছে।তবে এসব সম্পদের
বৈধতা বা অবৈধতার বিষয়ে
সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।বিভিন্ন কর্মস্থল নিয়ে
অভিযোগঅভিযোগে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জ,
ভোলা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সাভারে দায়িত্ব
পালনের সময় তার বিরুদ্ধে
বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ, দরপত্র প্রক্রিয়া
ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।ভোলা ও ময়মনসিংহে
দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন
প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথাও উল্লেখ
করা হয়েছে।ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনের সময় ভবনের নকশা
অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ করা হলেও এসব
অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত
প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে
অভিযোগঅভিযোগকারীদের দাবি, সাভার সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সরকারি নির্মাণকাজের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।তাদের অভিযোগ, পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে প্রভাব বিস্তারের
চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকজন
ঠিকাদার ও কর্মকর্তা নাম
প্রকাশ না করার শর্তে
এসব বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে
সংশ্লিষ্ট নথি ও সরকারি
তদন্তের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই
করা সম্ভব হয়নি।ব্যক্তিগত জীবন
নিয়েও
অভিযোগএদিকে বদরুল আলম খানের ব্যক্তিগত
জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। তার স্ত্রী গণমাধ্যমে
দেওয়া এক বক্তব্যে তার
সম্পদ, পারিবারিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত আচরণ
নিয়ে অভিযোগ করেছেন।তার স্ত্রী দাবি
করেছেন, পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ
রাখা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে
তার আচরণে পরিবর্তন এসেছে।এসব অভিযোগের বিষয়ে
বদরুল আলম খানের বক্তব্য
নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল
ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে
পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য
প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।স্বচ্ছ তদন্তের দাবিঅভিযোগকারীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে
ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাদের মতে, সরকারি অর্থ
ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদে থাকা কর্মকর্তাদের
বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত
করা প্রয়োজন।
কপিরাইট © ২০২৬ City News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত