প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে ২৩০ বছরের পুরোনো মসজিদ, পুরোনো স্থাপত্যের সঙ্গে নতুনের মেলবন্ধন
মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম, লেখক ||
চট্টগ্রাম নগরীর
উত্তর হালিশহর। অসি মিয়া চৌধুরী
রোড ধরে এগোতে থাকলে
চৌধুরীপাড়া বাজারের কিছুটা পরেই চোখে পড়ে
একটি পুরোনো মসজিদ। বাইরে থেকে দেখলে স্থাপনাটির
বয়স সহজে অনুমান করা
যায় না। কিন্তু এর
ইতিহাস প্রায় ২৩০ বছরের। ১৭৯৫
সালে নির্মিত এই মসজিদ আজও
বহন করে চলেছে চট্টগ্রামের
পুরোনো স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি অংশ।স্থানীয় সম্ভ্রান্ত
ব্যক্তি আসগর আলী চৌধুরী
মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রায় ১০ শতক জমির
ওপর নির্মিত মসজিদটি ছিল স্থানীয় মুসল্লিদের
নামাজ আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
ইমামসহ প্রায় ৩১ জন মুসল্লি
এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।স্থাপত্যে মোঘল
আমলের
ছাপমসজিদটির দিকে
একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে এর
নির্মাণশৈলীর বিশেষত্ব চোখে পড়ে। পুরো
স্থাপনাটিতে মোঘল স্থাপত্যের প্রভাব
রয়েছে। নকশায় তাজমহলের স্থাপত্যশৈলীরও প্রভাব দেখা যায়।বাইরের দেয়ালে
রয়েছে নানা ধরনের কারুকাজ।
মসজিদের ওপর রয়েছে ২৪টি
মিনার। রয়েছে তিনটি গম্বুজ। মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটির তুলনায়
আকারে বেশ বড়।স্থাপনাটির নির্মাণশৈলীতে
অতিরিক্ত অলংকরণের পরিবর্তে পুরোনো দিনের সরলতা রয়েছে। বিশেষ কোনো জানালা নেই।
দরজাগুলোও আকারে খুব বড় নয়।
চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এই
মসজিদ দীর্ঘ সময় ধরে টিকে
আছে নানা পরিবর্তনের মধ্য
দিয়ে।একসময়
নামাজের অনুপযোগী হয়ে
পড়েদুই শতাব্দীর
বেশি সময় ধরে টিকে
থাকা স্থাপনাটিও সময়ের ক্ষয় থেকে রেহাই
পায়নি। একপর্যায়ে মসজিদটির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়
যে সেখানে নামাজ আদায় করাও কঠিন
হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের
দিকে মসজিদটি নামাজ পড়ার অনুপযোগী হয়ে
যায়।তখন প্রয়োজন
দেখা দেয় সংস্কারের। পুরোনো
মসজিদটির সংস্কার করা হয়। তবে
শুধু পুরোনো স্থাপনাটি সংস্কারেই কাজ থেমে থাকেনি।
এর পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা
হয়েছে নতুন একটি মসজিদ।যেন
পানির
ওপর
ভাসছেনতুন মসজিদটির
স্থাপত্যে রয়েছে ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা। এর চারপাশে লেকের
আদল তৈরি করা হয়েছে।
ফলে কিছুটা দূর থেকে দেখলে
স্থাপনাটি পানির ওপর ভাসমান বলে
মনে হয়।একদিকে প্রায়
২৩০ বছরের পুরোনো মসজিদ, অন্যদিকে আধুনিক নকশায় নির্মিত নতুন মসজিদ দুটি
স্থাপনা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তৈরি করেছে ভিন্ন
এক দৃশ্য।পুরোনো মসজিদের
সংস্কারকাজে নেতৃত্ব দেন ড. আবু
সাঈদ এম আহমেদ। আর
নতুন মসজিদটির নকশা করেছে আরবানা
আর্কিটেক্টস।ইতিহাসের সঙ্গে
বর্তমানের যোগউত্তর হালিশহরের
এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের
স্থান নয় এর সঙ্গে
জড়িয়ে আছে দীর্ঘ সময়ের
স্থাপত্য ইতিহাস। ১৭৯৫ সালে যে
স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল, সেটি সময়ের সঙ্গে
সংস্কারের মধ্য দিয়ে আজও
টিকে আছে।
নতুন
মসজিদের আধুনিক স্থাপত্য আর পুরোনো মসজিদের
ঐতিহ্য দুটি ভিন্ন সময়ের
নির্মাণশৈলী এখানে পাশাপাশি দেখা যায়। ফলে
উত্তর হালিশহরের এই স্থাপনাটি চট্টগ্রামের
নগরজীবনের মধ্যে পুরোনো ইতিহাস ও নতুন স্থাপত্যের
একটি ব্যতিক্রমী সংযোগ তৈরি করেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ City News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত