প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১ দিনের কোয়ারেন্টিনে রেখে ১০ বছর, সংকীর্ণ ঘরে বন্দী দুই লেপার্ড
অনলাইন ডেস্ক ||
মাত্র দেড়
মাস বয়সে পাচারকারীদের হাত
থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল দুটি
লেপার্ড শাবক। নিয়ম অনুযায়ী তিন
সপ্তাহের অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা ছিল তাদের।
কিন্তু সেই কোয়ারেন্টিনই যেন
হয়ে উঠেছে তাদের স্থায়ী ঠিকানা। এক দশক ধরে
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের একটি সংকীর্ণ কক্ষে
বন্দী জীবন কাটাচ্ছে প্রাণী
দুটি।বন বিভাগ
সূত্রে জানা যায়, ২০১৭
সালে যশোর থেকে পুলিশ
দুটি লেপার্ড শাবক উদ্ধার করে।
তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাবক
দুটিকে গ্রহণ করে গাজীপুর সাফারি
পার্কে পাঠান। তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের
জন্য তাদের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়।কিন্তু এক
দশক পেরিয়ে গেলেও তাদের সেই অবস্থানের কোনো
পরিবর্তন হয়নি। ছোট শাবক দুটি
এখন পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড।ছোট
ঘরেই কেটে যাচ্ছে জীবনসম্প্রতি সাফারি
পার্কের কোয়ারেন্টিন শেডে গিয়ে দেখা
যায়, দুটি ছোট কক্ষে
রাখা হয়েছে লেপার্ড দুটিকে। সেখানে গাছে ওঠা, লাফিয়ে
চলাফেরা কিংবা শিকার করার কোনো সুযোগ
নেই।অল্প জায়গায়
দীর্ঘদিন বন্দী থাকার কারণে মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই ক্ষিপ্ত
হয়ে লোহার গ্রিলে আছড়ে পড়ছে প্রাণী
দুটি। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার জন্যও জায়গাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, কোয়ারেন্টিনের উদ্দেশ্য হলো উদ্ধার করা
প্রাণীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখা
এবং সম্ভাব্য রোগের বিস্তার ঠেকানো। সেটি দীর্ঘমেয়াদি আবাসন
হিসেবে ব্যবহারের কথা নয়।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ
মনিরুল এইচ খান বলেন,
জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ চার
সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখা যুক্তিযুক্ত। সাফারি
পার্কের মূল উদ্দেশ্যই হলো
প্রাণীদের উন্মুক্ত পরিবেশে রাখা। তিনি বলেন,
বছরের পর বছর এভাবে
ছোট ঘরে বন্দী রাখা
সাফারি পার্কের মূল ধারণার পরিপন্থী।
দ্রুত বাঘ ও সিংহের
মতো লেপার্ডের জন্য উপযোগী এনক্লোজার
তৈরি করা প্রয়োজন।দর্শনার্থীদেরও
আক্ষেপসাফারি পার্কে
আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, দেশের কোনো চিড়িয়াখানায় সাধারণত
লেপার্ড দেখার সুযোগ পাওয়া যায় না। শ্রীপুরের
সাফারি পার্কে দুটি লেপার্ড থাকলেও
সেগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। তাঁদের মতে,
আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করে হলেও দর্শনার্থীদের
লেপার্ড দেখার সুযোগ তৈরি করা যেতে
পারে। একই সঙ্গে প্রাণী
দুটির জন্য স্বাভাবিক চলাফেরার
উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।দ্রুত
ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসঢাকা বন্যপ্রাণী
ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ
বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম.
কে. এম ইকবাল হোছাইন
চৌধুরী বলেন, সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাচারকারীদের
কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার
পর যে দুটি লেপার্ড
শাবকের জন্য কোয়ারেন্টিন ছিল
মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবস্থা,
সেটিই কীভাবে তাদের ১০ বছরের বন্দিজীবনে
পরিণত হলো—এখন সেই
প্রশ্নই সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত উপযুক্ত
আবাসন নিশ্চিত করাই হতে পারে
প্রাণী দুটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রথম পদক্ষেপ।
কপিরাইট © ২০২৬ City News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত