প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাকসুর উদ্যোগে অবাঙালি মাতৃভাষা ও নবীন লেখকদের নিয়ে দুই স্মারকগ্রন্থ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত দুটি স্মারক সাহিত্যগ্রন্থের
মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গ্রন্থ
দুটি হলো অবাঙালি মাতৃভাষার
সাহিত্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বহুমাত্রিক’ এবং
ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালায়
অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত
‘হাতেখড়ি’।সোমবার রাত
১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব
আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গ্রন্থ দুটির
মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ডাকসুর
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
গ্রন্থ দুটি সম্পাদনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক
কায়েম। এ ছাড়া জিএস
এস এম ফরহাদ, এজিএস
মহিউদ্দিন খান, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ
ড. মোশাররফ হোসেন মুন্নাসহ হল সংসদ ও
ডাকসুর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে ডাকসুর
জিএস এস এম ফরহাদ
বলেন, ডাকসু যে সবার জন্য
কাজ করে, ‘বহুমাত্রিক’ তার একটি উদাহরণ।
চাকমা, মারমা, ম্রোসহ চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসা ভাষাগুলো
সংরক্ষণের লক্ষ্যেই স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে।এস এম
ফরহাদ বলেন, ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালার
স্মারকগ্রন্থ ‘হাতেখড়ি’ও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালার
মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে লেখা
সংগ্রহ করে বাছাইয়ের পর
গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি
শিক্ষার্থীদের লেখক হয়ে ওঠার
ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দেবে।তিনি আরও
বলেন, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
ডাকসু থেকে ২৭টি গ্রন্থ
সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন।
এসব সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।গ্রন্থ দুটির
সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
বলেন, শুরু থেকেই সাহিত্য
ও সংস্কৃতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত
করার লক্ষ্য ছিল তাঁদের। এ
লক্ষ্যেই বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি
মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর ভাষায়
সাহিত্যচর্চার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মুসাদ্দিক আলী
বলেন, দেশের কিছু ভাষা চর্চার
অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। কথা
বলে তিনি দেখেছেন, এসব
জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থীই তাঁদের
মাতৃভাষার লিখিত রূপ জানেন না।
এ কারণে চাকমা, ম্রো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ভাষার ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা নিয়ে
‘বহুমাত্রিক’ প্রকাশ করা হয়েছে।‘হাতেখড়ি’ প্রকাশের
বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায়
সাড়ে সাত শ শিক্ষার্থীকে
নিয়ে লেখালেখির একটি কর্মশালা আয়োজন
করা হয়েছিল। এক মাস ধরে
তাঁদের লেখালেখির বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা
ও অনুপ্রেরণা থেকে শিক্ষার্থীরা লেখা
জমা দেন। পরে সেসব
লেখা বাছাই করে ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারকগ্রন্থ ২০২৫ ‘হাতেখড়ি’ প্রকাশ
করা হয়েছে।মুসাদ্দিক আলী
বলেন, নবীন লেখকদের গড়ে
তোলার লক্ষ্যেই বইটির নাম ‘হাতেখড়ি’ দেওয়া
হয়েছে। তিনি আশা করেন,
নবীন লেখকেরা পাঠকের উৎসাহ পাবেন এবং একদিন পরিণত
লেখকে পরিণত হবেন। সেদিনই এ উদ্যোগ সার্থক
হবে।গ্রন্থ দুটির
সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন আসিফ
আব্দুল্লাহ, ফাতিমা তাসনিম জুমা, মাহিয়া বিনতে মামুন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসূরী, নুসরাত জাহান, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল
মাহদীন।
‘হাতেখড়ি’
স্মারকগ্রন্থের ব্যবস্থাপনা ও কর্মশালার সার্বিক
দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ
সাহিত্যকেন্দ্রের সভাপতি কবি আফসার নিজাম
এবং নটনাট্যের সভাপতি ও নাট্য নির্দেশক
হুসনে মোবারক।
কপিরাইট © ২০২৬ City News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত