চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার শেরশাহ এলাকায় বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোয়ানের একটি গুদামে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুদামটি বনফুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবের বলে জানা গেছে। গমের বস্তাগুলো আনলোড করার সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা গুদামটি ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার
গভীর রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা
গম সংরক্ষণাগার (সাইলো) থেকে খাগড়াছড়ি সদর
এলএসডির উদ্দেশে গমবোঝাই দুটি ট্রাক ছেড়ে
যায়। পরিবহন ঠিকাদার মোহাম্মদ ইছার তত্ত্বাবধানে ট্রাক
দুটি রওনা হলেও নির্ধারিত
গন্তব্যে না গিয়ে শনিবার
সকালে শেরশাহ এলাকার কিশোয়ানের একটি গুদামে গম
নামানো শুরু করে।
এ
সময় স্থানীয় লোকজন গম নামাতে বাধা
দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একটি
ট্রাক সেখান থেকে চলে যায়।
অন্য ট্রাকটি আটকে রেখে পুলিশকে
খবর দেন তাঁরা। পরে
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামে প্রবেশ
করে। সেখানে ‘খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য’ লেখা অন্তত পাঁচ
হাজার বস্তা গমের মজুত দেখতে
পায়।
এ
ঘটনায় সরকারি গমের উৎস, পরিবহনের
প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত গন্তব্যে
না পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিলামে
কেনার দাবি, কাগজপত্র যাচাই হয়নি
বায়েজিদ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন
বলেন, অবৈধভাবে গম মজুত রাখার
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
যায়। তবে খাদ্য অধিদপ্তর
বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান
এখনো এ বিষয়ে অভিযোগ
করেনি।
ওসি
জানান, কিশোয়ান গ্রুপের কর্মকর্তারা বিভিন্ন নিলাম থেকে গমগুলো কেনা
হয়েছে বলে দাবি করে
কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছেন। তবে এসব কাগজপত্রের
সত্যতা এখনো যাচাই করা
হয়নি। এ বিষয়ে খাদ্য
অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত
নেওয়া হবে।
গন্তব্যের
বাইরে গম নামানোর সুযোগ
নেই: সাইলো কর্তৃপক্ষ
পতেঙ্গা
সাইলোর তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল হাসান বলেন, যে গুদামের জন্য
গম পাঠানো হয়, সেই গুদাম
ছাড়া অন্য কোথাও তা
নামানোর সুযোগ নেই।
তিনি
জানান, পতেঙ্গা সাইলো থেকে ট্রাক ছাড়ার
সময় পরিবহন ঠিকাদারের প্রতিনিধির কাছে একটি চালান
দেওয়া হয়। নির্ধারিত গন্তব্যের
গুদামের ব্যবস্থাপক চালানটি গ্রহণ করে আবার সাইলোতে
পাঠিয়ে দেন।
রাকিবুল
হাসান বলেন, মাঝপথে গম নামিয়ে নেওয়ার
পরও যদি গুদামের ব্যবস্থাপকের
হাতে চালান বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সাইলো
কর্তৃপক্ষের পক্ষে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন।
তিনি
আরও বলেন, গমগুলো কালোবাজারে বিক্রি হয়ে থাকলে পরিবহন
ঠিকাদার ও খাগড়াছড়ির গুদাম
ব্যবস্থাপকের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া তা সম্ভব
নয় বলে তাঁর ধারণা।
সাবেক
সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবের
গুদাম
বনফুল
গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
এম এ মোতালেব একসময়
সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া)
আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী
হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হন।
জুলাই
বিপ্লবের পর থেকে তিনি
পলাতক অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বলে পরিচিত
গুদামে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম পাওয়ার ঘটনায়
স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
তবে
গুদামে পাওয়া গমের মালিকানা, নিলামে
কেনার দাবির সত্যতা এবং গম পরিবহনের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
গমগুলো
কীভাবে খাগড়াছড়ির নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে চট্টগ্রামের
শেরশাহ এলাকার গুদামে পৌঁছাল, নিলামের কাগজপত্র কতটা বৈধ এবং
এ ঘটনায় কারও অনিয়ম বা
সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব
বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ
জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য ও নথিপত্র
যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ
নেওয়া হবে।