ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
City News
সর্বশেষ
সৌন্দর্য আছে, পর্যটনের অবকাঠামো কতটা প্রস্তুত?

সৌন্দর্য আছে, পর্যটনের অবকাঠামো কতটা প্রস্তুত?

বাংলাদেশের পর্যটনের কথা উঠলেই কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সেন্ট মার্টিনের নীল জল, বান্দরবানের পাহাড় কিংবা সিলেটের চা-বাগনের কথা মনে আসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে বাংলাদেশের ঘাটতি নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যটনের বড় প্রশ্নটি অন্য জায়গায়- এই সৌন্দর্যকে ঘিরে আমরা কতটা নিরাপদ, সহজ ও মানসম্মত ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা দিতে পারছি?আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু আকর্ষণীয় গন্তব্য পর্যটক টানে, কিন্তু উন্নত সেবা ও অবকাঠামো তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনে। তাই পর্যটনকে শুধু বিনোদন নয়, বরং নিরাপত্তা, যোগাযোগ, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক খাত হিসেবে দেখতে হবে।নিরাপত্তা আগে, অবকাঠামো পরেপর্যটকের আস্থার প্রথম শর্ত নিরাপত্তা। এরপর আসে অবকাঠামো। বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো, নিরাপদ সড়ক, মানসম্মত আবাসন, চিকিৎসাসুবিধা, ইন্টারনেট, পরিচ্ছন্নতা এবং জরুরি সহায়তা-সবকিছু মিলেই তৈরি হয় একটি পর্যটন অভিজ্ঞতা।সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পর্যটনের বিকাশে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানবন্দর, সড়ক, নৌপথ ও পর্যটকবান্ধব সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশেও একইভাবে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। কক্সবাজারে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত থাকলেই হবে না; সেখানে সহজ যাতায়াত, মানসম্মত আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।বিমানবন্দরই প্রথম পরিচয়আন্তর্জাতিক পর্যটকের কাছে বিমানবন্দর একটি দেশের প্রথম পরিচয়। দ্রুত ইমিগ্রেশন, সহজ যাতায়াত, পর্যাপ্ত তথ্যসেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তাই গুরুত্বপূর্ণ।সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর কিংবা ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর দেখিয়েছে, বিমানবন্দর কীভাবে পর্যটন অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।একই সঙ্গে সিলেট, চট্টগ্রাম ও যশোর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবে উন্নত করা প্রয়োজন।সড়ক-রেল-নৌপথে সংযোগবিমানবন্দর পর্যটককে দেশে আনে, কিন্তু সড়ক, রেল ও নৌপথ তাকে পৌঁছে দেয় গন্তব্যে। তাই পর্যটনের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার সম্পর্ক সরাসরি।ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার করিডরের পাশাপাশি ঢাকা–সিলেট এবং পার্বত্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।বাংলাদেশের নদী ও উপকূলও পর্যটনের বড় সম্পদ। মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন, কুতুবদিয়া, নিঝুম দ্বীপ ও কুয়াকাটাকে ঘিরে নিরাপদ নৌপরিবহন, আধুনিক টার্মিনাল ও ডিজিটাল টিকিটিং চালু করা গেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।স্মার্ট পর্যটনের সময়আধুনিক পর্যটক শুধু সুন্দর জায়গা দেখতে চান না; তিনি চান নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি, দ্রুত ইন্টারনেট, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সহজ তথ্যসেবা।কক্সবাজার, সিলেট, বান্দরবান ও কুয়াকাটাকে পর্যায়ক্রমে ‘স্মার্ট ট্যুরিজম জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। ডিজিটাল সাইনেজ, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, মোবাইল অ্যাপ, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।শুধু দর্শন নয়, অভিজ্ঞতাওপর্যটনের ধরন বদলেছে। এখন পর্যটক শুধু একটি দর্শনীয় স্থান দেখে ফিরে যেতে চান না; তিনি স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি, প্রকৃতি, বিনোদন ও অ্যাডভেঞ্চারের পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা চান।কক্সবাজারে সমুদ্রভিত্তিক বিনোদন, বান্দরবানে অ্যাডভেঞ্চার, সিলেটে প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন এবং সোনারগাঁও-পাহাড়পুরে সাংস্কৃতিক পর্যটন—এভাবে গন্তব্যভিত্তিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা যেতে পারে। এর সঙ্গে মানসম্মত হোটেল, ইকো-লজ, রিসোর্ট, চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিনোদন অবকাঠামো যুক্ত করা প্রয়োজন।বিনিয়োগে সরকার-বেসরকারি অংশীদারত্ববড় পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারের দায়িত্ব হবে নীতি, নিরাপত্তা, জমি, পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা। অন্যদিকে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আনতে পারেন পুঁজি, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বিপণন দক্ষতা।তবে উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ক্যারিয়িং ক্যাপাসিটি, জোনিং ও পরিবেশগত বিধিমালা মেনে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলাই টেকসই পথ।প্রয়োজন সুস্পষ্ট রোডম্যাপবাংলাদেশের পর্যটনের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান। প্রথমে বিমানবন্দর, সড়ক, রেল, নৌপথ, পানি, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল সেবার ঘাটতি চিহ্নিত করতে হবে। এরপর অগ্রাধিকারভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্রিক আবাসন ও বিনোদনসুবিধা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।এর পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম, স্মার্ট ট্যুরিজম ও সামুদ্রিক পর্যটনের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।সৌন্দর্যের সঙ্গে সক্ষমতাবাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে সেই সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে।নিরাপত্তা পর্যটকের আস্থা তৈরি করে, আর অবকাঠামো সেই আস্থাকে অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়। তাই কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, বান্দরবান, সিলেট, কুয়াকাটা ও মহেশখালীকে শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে নয়, পরিকল্পিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের সম্পদ; এখন প্রয়োজন সেই সম্পদের সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবার সমন্বয়। তাহলেই পর্যটন জাতীয় অর্থনীতির আরও গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

চর উজিলাব ইউপি নির্বাচন: জনপ্রিয় চেয়াম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন

চর উজিলাব ইউপি নির্বাচন: জনপ্রিয় চেয়াম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন

নারায়ণপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জনপ্রিয় মুখ হাজি মো. বিপ্লব ভূঁইয়া

নারায়ণপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জনপ্রিয় মুখ হাজি মো. বিপ্লব ভূঁইয়া

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এমাদ মিয়া, বাজনাব ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এমাদ মিয়া, বাজনাব ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার গাংকুল পাড়ার ফুটবল ফাইনালে জয়ী দক্ষিণ একাদশ

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার গাংকুল পাড়ার ফুটবল ফাইনালে জয়ী দক্ষিণ একাদশ

রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কিশোর গ্যাং ও অপরাধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের মুল হোতা সুজন

রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কিশোর গ্যাং ও অপরাধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের মুল হোতা সুজন

আগরতলায় ভারত-বাংলাদেশ গণমাধ্যম সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠক

আগরতলায় ভারত-বাংলাদেশ গণমাধ্যম সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠক

জামায়াতের সিদ্ধান্ত বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম

জামায়াতের সিদ্ধান্ত বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম

জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

একজন চিকিৎসকের কাঁধে জবির ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ভোগান্তিতে স্বাস্থ্যসেবা

একজন চিকিৎসকের কাঁধে জবির ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ভোগান্তিতে স্বাস্থ্যসেবা

বেলাব সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয় আতাউর রহমান বাচ্চু

বেলাব সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয় আতাউর রহমান বাচ্চু



রিকশা বশির এখন কোটিপতি

একসময় দিনমজুর ও রিকশাচালক ছিলেন বশির আহমেদ। এলাকায় ‘রিকশা বশির’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি গত দেড় দশকে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপট, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ অটোরিকশার সিন্ডিকেট করে তাঁর এই উত্থান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান বশির। পরে বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতির পদ বাগিয়ে মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, পোস্ট অফিস রোড, আফতাবনগর ও পুলিশ প্লাজা এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বশিরের নিয়ন্ত্রণে ২০০টির বেশি অবৈধ অটোরিকশা ও ৩০০টির বেশি ম্যানুয়েল রিকশা রয়েছে। পুরো ওয়ার্ডের হাজার হাজার অটোরিকশা থেকেও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। চাঁদার একটি অংশ স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ, থানা ও প্রভাবশালী চক্রকে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।এ ছাড়া বশিরের শ্যালক আলাচন ও আক্তারের নেতৃত্বে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালিত হয় এবং বশিরের রিকশার গ্যারেজগুলো মাদক সংরক্ষণ ও কেনাবেচায় ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অজ্ঞান পার্টি ও রিকশা চোর চক্রের সদস্যদেরও এসব গ্যারেজে যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ।জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও সরকারের পক্ষে মাইকিংয়ে বশিরের অংশগ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় করা একটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিচয়ও বদলেছেন বশির এমন অভিযোগ রয়েছে। বাড্ডা থানা রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল আহমেদ বলেন, বশির আগে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং সহসভাপতি ছিল। তবে পটপরিবর্তনের পর সে এখন বিএনপি করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বশির এখনো এলাকায় তাঁর প্রভাব ধরে রেখেছেন। মামলা ও নানা অভিযোগের পরও তিনি কীভাবে সক্রিয় রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। 

রিকশা বশির এখন কোটিপতি
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন