ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
City News

বেশি শব্দে আজান দেওয়ার অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার

ভারতের উত্তরপ্রদেশে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শব্দে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামের এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শনিবার উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদের মকবারা এলাকার নাজিব-উদ-দৌলা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। মসজিদটি সরকারি ইন্টার কলেজের কাছে অবস্থিত। পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই আজানের শব্দ শুনে স্থানীয় পুলিশকে মসজিদটি পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে মসজিদটিতে জোহরের আজান দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ সেখানে গিয়ে একটি লাউডস্পিকার জব্দ করে। পুলিশের অভিযোগ, লাউডস্পিকারটির শব্দ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল।পরে উপপরিদর্শক সৌরভ সিংয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ফাইজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে মহকুমা শাসকের (এসডিএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।শব্দের মাত্রা নিয়ে প্রশ্নপুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, লাউডস্পিকারটি মসজিদের ভেতরে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে সেটি দেখা না যায়। অতিরিক্ত শব্দে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থ মানুষের ক্ষতি হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।তবে আজানের সময় শব্দের মাত্রা কত ডেসিবেল ছিল, তা জানায়নি পুলিশ। লাউডস্পিকার জব্দ ও মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তারের আগে ডেসিবেল মিটারের সাহায্যে শব্দ পরিমাপ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন নাজিবাবাদের শহরের কাজি আফান-উল-হক। তাঁর মতে, ফাইজানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহারে কড়াকড়িপুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই বলেছেন, ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করে লাউডস্পিকার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।শব্দদূষণবিধি মেনে চলা হচ্ছে—এ মর্মে বিট কনস্টেবলদের কাছ থেকে হলফনামা সংগ্রহ করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট কনস্টেবল—উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।গত মাসেও বিজনোর জেলা প্রশাসন ধর্মীয় স্থানে অনুমোদিত সীমার বেশি শব্দে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছিল। ওই অভিযানে মসজিদ, মন্দির ও গুরুদুয়ার থেকে লাউডস্পিকার সরিয়ে নেওয়া হয়।উত্তরপ্রদেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণবিধি কার্যকরের অংশ হিসেবে ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারিতে রয়েছে।আজান ও লাউডস্পিকার নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ২০২০ সালের মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক রায়ে বলেন, আজান দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের আওতাভুক্ত হলেও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান সম্প্রচার সেই অধিকারের অপরিহার্য অংশ নয়।আদালত আরও বলেন, লিখিত অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বা জনসমক্ষে শব্দ সম্প্রচারের যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না।সূত্র: মাকতুব মিডিয়া

বেশি শব্দে আজান দেওয়ার অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার