ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
City News

বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃত পরিসংখ্যানবিদ কাজী মোতাহার হোসেনের জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃত পরিসংখ্যানবিদ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ু কাজী মোতাহার হোসেনের জন্মদিন আজ। ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজবিষয়ক নানা বিষয়ে তিনি অসংখ্য বই ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বাংলা ভাষাকে শিক্ষার সব স্তরে চালুর দাবিতে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তিনি ছিলেন তার অন্যতম দৃঢ় সমর্থক। পাশাপাশি বাংলা বানান ও লিপি সংস্কার কমিটির সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে পরিচালিত সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও একজন বলিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন তিনি। ১৯৫৭ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আয়োজিত ঐতিহাসিক কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।ব্যক্তিগত জীবনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। নজরুল স্নেহভরে তাঁকে ‘মোতিহার’ বলে সম্বোধন করতেন। ১৯৬১ সালে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর বিরোধিতা সত্ত্বেও ঢাকায় রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে তিনি সাহসী ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান।বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় ছিল Design of Experiments। ডক্টরাল গবেষণায় তিনি Hussains Chain Rule নামে একটি নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। এ কারণেই তৎকালীন পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাঁকে প্রথম স্বীকৃত পরিসংখ্যানবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।দাবা খেলাতেও তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯২৯ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলা ও পরে পূর্ব পাকিস্তানে একক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি একজন খ্যাতিমান দাবাড়ু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশে দাবা খেলার পথিকৃৎ হিসেবেও তাঁকে সম্মান জানানো হয়।১৯৮১ সালের ৯ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে স্মরণীয়।ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, কাজী মোতাহার হোসেনই প্রথমবার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে চট্টগ্রামের জাফর আলী হিলে (বর্তমান ডিসি হিল) নিয়ে আসেন। সেই সফরে তিনি নজরুলের সঙ্গে হজরত ডিপুটি শাহ মোহাম্মদ বদিউল আলম (রহ.)-এর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। ওই সাক্ষাতে কবি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে এলেই তিনি জাফর আলী হিলে যেতেন। নজরুলের সঙ্গে ডিপুটি শাহ মোহাম্মদ বদিউল আলম (রহ.)-এর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁর একমাত্র ছেলে হজরত শাহ মোহাম্মদ মোজহেরুল আলম (রহ.)-এর সঙ্গে কবির নিয়মিত চিঠিপত্র আদান-প্রদান হতো।কাজী মোতাহার হোসেনের জন্মদিন উপলক্ষে হজরত ডিপুটি শাহ মোহাম্মদ বদিউল আলম (রহ.)-এর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার দোয়া করেছেন।

বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃত পরিসংখ্যানবিদ কাজী মোতাহার হোসেনের জন্মদিন আজ