গিরিশ চন্দ্র সেনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি
নরসিংদীর পাঁচদোনা
গ্রামের মেহেরপাড়ায় দাঁড়িয়ে আছে গিরিশ চন্দ্র
সেনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। ড্রিম হলিডে পার্কের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িটি এখন
একটি জাদুঘর। ইতিহাস, সাহিত্য ও ধর্মীয় গবেষণার
সঙ্গে যুক্ত গিরিশ চন্দ্র সেনের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।দীর্ঘ সময়
বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে
২০১৬ সালে ভারতীয় কমিশনারের
অনুদানে পুরোনো কাঠামো ঠিক রেখে বাড়িটি
পুনর্নির্মাণ করা হয়। সংস্কারের
পর দর্শনার্থীদের জন্য এটি খুলে
দেওয়া হয়।বাড়িটির সংস্কারে
চুন ও সুরকির পাশাপাশি
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা
মূল্যবান কাঠ ও টালি
ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরের
অংশে রাখা হয়েছে ব্রিটিশ
আমলের আসবাবপত্র। বাড়ির সামনে রয়েছে গিরিশ চন্দ্র সেনের আবক্ষ মূর্তি। এর পাশে তাঁর
জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত
পরিচিতিও তুলে ধরা হয়েছে।জাদুঘরে
যা রয়েছেগিরিশ চন্দ্র
সেনের বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত ‘ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন মিউজিয়াম’-এ
তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র, লেখা বই এবং
বাস্তুভিটা থেকে পাওয়া প্রত্ননিদর্শন
সংরক্ষিত রয়েছে।এসব নিদর্শনের
মাধ্যমে দর্শনার্থীরা তাঁর ব্যক্তিজীবন, সাহিত্যকর্ম,
গবেষণা এবং অনুবাদচর্চা সম্পর্কে
ধারণা নিতে পারেন। প্রতি
সপ্তাহের রোববার ছাড়া সপ্তাহের অন্য
ছয় দিন জাদুঘরটি সাধারণ
দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।গিরিশ
চন্দ্র সেনের জীবন১৮৩৪ সালে
নরসিংদীর পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গিরিশ চন্দ্র
সেন। তিনি ছিলেন সাহিত্যিক,
গবেষক ও ভাষাবিদ। ইসলাম
ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে তিনি গবেষণা
ও অনুবাদ করেন।ভিন্ন ধর্মের
অনুসারী হয়েও তিনি পবিত্র
কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেন। তাঁর এই কাজ
তাঁকে বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে
পরিচিত করে।ব্রাহ্মধর্মের প্রচারক
হিসেবে তিনি ‘ভাই’ উপাধি লাভ
করেন। আরবি ও ফারসি
ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কোরআন ও হাদিস অনুবাদের
সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁকে ‘মৌলভি’
উপাধিতেও ভূষিত করা হয়।১৯১০ সালের
১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন গিরিশ চন্দ্র
সেন।দর্শনার্থীদের
জন্য ঐতিহাসিক স্থানগিরিশ চন্দ্র
সেনের বাড়িটি এখন শুধু তাঁর
স্মৃতি ধরে রাখা একটি
পুরোনো বাড়ি নয়। তাঁর
ব্যবহার্য সামগ্রী, বই ও বিভিন্ন
নিদর্শন সংরক্ষণের কারণে এটি একটি জাদুঘরে
পরিণত হয়েছে। নরসিংদীর ইতিহাস ও গিরিশ চন্দ্র
সেনের জীবন-কর্ম জানতে
আগ্রহীদের জন্য স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ
একটি দর্শনীয় স্থান।লেখক: মোহাম্মদ
নাজমুল হক শামীম
সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ
ইতিহাস চর্চা পরিষদ