ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
City News

গ্রামেও বাড়ছে ডেঙ্গু, কোথাও পরীক্ষা বন্ধ, কোথাও রোগীর চাপ

সারা দেশের গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসুবিধা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীদের ঝুঁকি বাড়ছে।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তের কিটের সংকটে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীরা পরীক্ষা করাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তাঁদের অনেককে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ২৮২ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আবার কবে কিট আসবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা।কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিট ছিল। সেখান থেকে কিছু কিট অন্য উপজেলায় ধার হিসেবে দেওয়ায় বর্তমানে সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত কিটের মজুত হলে পরীক্ষা আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মতলেব হোসেন নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি কেশবপুর পৌর শহরের বালিয়াডাঙ্গা এলাকার ব্যবসায়ী। বুধবার বিকেলে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছর কেশবপুরে ১৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মতলেব হোসেন মারা গেছেন। বর্তমানে তিনজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।কিশোরগঞ্জেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমছে না। বরং সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর জেলায় নতুন করে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বছরের শুরু থেকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ জনে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১৪ জন।বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই সময়ে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আলভী হাছান বলেন, রোগীর চাপ বাড়লে পর্যাপ্ত শয্যা, পরীক্ষা, স্যালাইন, ওষুধ, চিকিৎসক ও নার্সিং সেবা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।রাঙামাটির রাজস্থলীতেও গত এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল সাতজন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ রোগী স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে সারা দেশের মতো রাজস্থলীতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।রংপুরের পীরগঞ্জেও বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে ১৩০ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। অতিরিক্ত রোগীর চাপে নির্ধারিত শয্যার বাইরে ফ্লোর ও বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৪ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। তাঁদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ফিরেছেন। ঢাকায় থাকা অবস্থায় জ্বর হওয়ার পর অনেকে বাড়ি ফিরে পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত করছেন। আবার কেউ পীরগঞ্জে জ্বর হওয়ার পর হাসপাতালে এসে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত করছেন।পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর জেলার মধ্যে পীরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি। গত বছরগুলোর তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ২৪ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে।

গ্রামেও বাড়ছে ডেঙ্গু, কোথাও পরীক্ষা বন্ধ, কোথাও রোগীর চাপ