ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
City News

একজন চিকিৎসকের কাঁধে জবির ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ভোগান্তিতে স্বাস্থ্যসেবা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবার দায়িত্ব বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসকের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক, জনবল ও স্বাস্থ্যসেবা–সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। সীমিত ওষুধের সরবরাহ এবং মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতা শবনম একাই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে আসলেও একজন চিকিৎসকের পক্ষে এত রোগী সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি এবং বিকেলের পর চিকিৎসক না থাকায় জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।ডা. মিতা শবনম বলেন, আগে দুজন চিকিৎসক থাকলেও এখন তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন জনবল নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইউজিসিতে চিঠি পাঠিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের ওষুধ দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে গুরুতর রোগীদের বাইরে হাসপাতালে পাঠাতে হয়। একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সব সময় চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিক মেডিকেল ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জায়গার সংকট ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের চেষ্টাও চলছে।ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. কেএএম রিফাত হাসান বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। আর উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্‌দীন জানান, জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য ইউজিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অনুমোদন মিললেই চিকিৎসক সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একজন চিকিৎসকের কাঁধে জবির ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ভোগান্তিতে স্বাস্থ্যসেবা