২৫১ গুমের তদন্ত শেষ করে চলতি বছরেই বিচার শুরুর লক্ষ্য: চিফ প্রসিকিউটর
আওয়ামী লীগ
সরকারের শাসনামলে ২৫১ জনের গুমের
অভিযোগের তদন্ত শেষ করে চলতি
বছরেই বিচার শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে
জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল
ইসলাম।রোববার ট্রাইব্যুনালের
নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে
তিনি এ কথা জানান।চিফ প্রসিকিউটর
বলেন, ২৫১ জনের গুমের
ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তুলে নেওয়ার পদ্ধতিতে
বেশ মিল রয়েছে। প্রায়
সব ঘটনাই একই ধরনের হওয়ায়
এসব ঘটনাকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ অপরাধ
হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ মনে করছে প্রসিকিউশন।তিনি বলেন,
আজ গুমের শিকার পরিবারের ৫৫ জন সদস্য
ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা
তাঁদের জবানবন্দি নিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে অন্য পরিবারের সদস্যদেরও
জবানবন্দি নেওয়া হবে। তাঁদের কাছে
থাকা প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জব্দ করা হবে।আমিনুল ইসলাম
বলেন, গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অনেকাংশেই
চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
কারা কীভাবে তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল
এবং কোথায় এসব ঘটনা ঘটেছে,
সেই স্থানগুলোও প্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে
তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত
প্রকাশ করা হবে না।তিনি আরও
বলেন, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার
ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ গুমের
ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।
কর্মরত এবং অবসর নেওয়া
ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ কেউ জড়িত
থাকতে পারেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চলতি
বছরের মধ্যেই বিচার শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে
ট্রাইব্যুনাল।গুমের শিকার
ব্যক্তিদের পরিবারের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিফ
প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, যেসব
আসামিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাঁদের
গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের
ভেতরে ও বাইরে আসামিদের
আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।গুমের শিকার
পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে
আবেদন জানানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।আমিনুল ইসলাম
বলেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন—এমন
আশঙ্কাও রয়েছে। তাই তাঁদের সতর্ক
থাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত
কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত
বা নস্যাৎ না হয়, সে
বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর
আগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ
থেকে ২৫১ জনের গুমের
অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া হয়। সংগঠনটির নেতৃত্বে
আজ গুমের শিকার পরিবারের ৫৫ জন সদস্য
ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেন।
তাঁদের জবানবন্দি নিচ্ছেন তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা।