একসময় পর্দায় জনপ্রিয় নায়িকা, পরে শক্তিশালী চরিত্রাভিনেত্রী দুই পরিচয়েই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সূচরিতা। তবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় সেগুলোতে কাজ করেননি এই অভিনেত্রী।
নতুন
সিনেমায় ফেরার বিষয়ে সূচরিতা বলেন, নায়িকা হিসেবে বহু সিনেমায় অভিনয়
করে তিনি দর্শকের ভালোবাসা
পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে মায়ের চরিত্রসহ
বিভিন্ন চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। দর্শক তাঁকে নায়িকা হিসেবে যেমন গ্রহণ করেছেন,
তেমনি চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও আপন করে নিয়েছেন।
তাঁর
প্রশ্ন, বর্তমান সময়ে তাঁর মতো
সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে কেন সিনেমা
নির্মিত হচ্ছে না। সূচরিতার মতে,
একসময় একটি সিনেমায় একাধিক
প্রজন্মের শিল্পীর সমন্বয় থাকত। এখন সেই ধারা
কমে গেছে। সিনিয়র ও জুনিয়র শিল্পীদের
নিয়ে ভালো পারিবারিক গল্পের
সিনেমা নির্মাণ করা হলে এখনো
দর্শকের সাড়া পাওয়া সম্ভব
বলে মনে করেন তিনি।
তবে
শুধু অভিনয়ের জন্য অভিনয় করতে
চান না সূচরিতা। তাঁর
ভাষায়, “আমি এখনো ভালো গল্প ও সুন্দর চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, তা না হলে শুধু শুধু অভিনয় করার প্রয়োজন নেই।”
‘আজীবন
সম্মাননা’তেও আগ্রহ নেই
অভিনয়ের
পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন থেকে নিয়মিত ‘আজীবন
সম্মাননা’ দেওয়ার প্রস্তাবও পান সূচরিতা। তবে
এসব প্রস্তাবও তিনি বারবার ফিরিয়ে
দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি
বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার এবং প্রযোজক-পরিবেশক
পুরস্কারের বাইরে অন্য কোনো পুরস্কার
নিয়ে তিনি কখনো ভাবেননি।
সূচরিতার
মতে, বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে বাচসাস
এবং ১৯৭৫ সালে জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরস্কার চালু হয়। এই
দুই স্বীকৃতি একজন শিল্পীর জন্য
যথেষ্ট বলেই মনে করেন
তিনি। তাঁর ভাষায়, “পারফেক্ট দু-একটা পুরস্কারই যথেষ্ট।” তবে
প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির পুরস্কার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে
বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশুশিল্পী
থেকে নায়িকা
দেশ
স্বাধীনের পরের বছর, ১৯৭২
সালের ২২ ডিসেম্বর ‘স্বীকৃতি’
সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে সূচরিতার অভিষেক হয়। এর আগে
মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘বাবলু’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
নায়িকা
হিসেবে অভিষেকের সময় ১৯৭২ সালে
মুক্তি পাওয়া উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল ‘ওরা ১১
জন’, ‘নিজেরে হারায়ে খুঁজি’, ‘লালন ফকির’, ‘চৌধুরী
বাড়ি’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’,
‘অবুজ মন’, ‘অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘কাঁচের স্বর্গ’ ও ‘রক্তাক্ত বাংলা’।
দীর্ঘ
অভিনয়জীবনে সূচরিতা অভিনয় করেছেন ‘ডাকু মনসুর’, ‘সমাধি’,
‘তাল বেতাল’, ‘আপনজন’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘আসামী’, ‘মহেশখালীর বাঁকে’, ‘তুফান’, ‘নদের চাঁদ’, ‘কাজল
লতা’, ‘বদলা’, ‘দি ফাদার’, ‘নাগর
দোলা’, ‘কথা দিলাম’, ‘গাঁয়ের
ছেলে’, ‘কলমীলতা’, ‘লাল সবুজের পালা’,
‘জীবন নৌকা’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’,
‘সন্ধি’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’, ‘দাঙ্গা’,
‘ত্রাস’ ও ‘আঁখি মিলন’সহ বহু সিনেমায়।
‘হাঙ্গর
নদী গ্রেনেড’ ও ‘মেঘকন্যা’ সিনেমায়
অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র
পুরস্কারে ভূষিত হন সূচরিতা। এ
ছাড়া তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য
হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
দীর্ঘ
ক্যারিয়ারের পরও অভিনয় থেকে
পুরোপুরি সরে যেতে চান
না এই অভিনেত্রী। ভালো
গল্প ও মানানসই চরিত্র
পেলে আবারও বড় পর্দায় ফেরার
আগ্রহের কথাই জানিয়েছেন তিনি।