নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাতে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
দূতাবাস
জানিয়েছে, আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির
উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত
পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা
উচিত। বিশেষ করে পিসাং, চামে,
মানাং ও আশপাশের পর্যটন
এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহত
বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও তুষারপাত হচ্ছে।
এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত
হওয়ার পাশাপাশি দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভূমিধসের কারণে পোখারা ও আশপাশের এলাকার
সড়ক এবং নিকটবর্তী ট্রেকিং
গন্তব্যে যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
মুস্তাং,
জমসমসহ পার্বত্য এলাকায় যাওয়ার আগে গান্দাকি প্রদেশের
বিভিন্ন সড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেওয়ার পরামর্শ
দিয়েছে দূতাবাস। কারণ, এসব এলাকার সড়ক
যোগাযোগ যেকোনো সময় আবারও বিচ্ছিন্ন
হতে পারে।
অন্নপূর্ণা,
মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ
বিভিন্ন পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায়
ট্রেকিং, পর্বতারোহণ কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে
সব তথ্য যাচাই করতে
বলা হয়েছে। পাশাপাশি নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের
নির্দেশনা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে বলেছে দূতাবাস।
দূতাবাস
আরও জানিয়েছে, তারা নেপালের সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ
করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা
হবে।
তুষারধসে
নিখোঁজ ১৪
এদিকে
নেপালে একটি ভয়াবহ তুষারধসের
ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নেপালি
নিখোঁজ হয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ৭ হাজার ১২৬
মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে না। ফলে উদ্ধার
অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রেকিং
কর্মকর্তারা।
‘কাঠমান্ডু
পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, মানাং জেলার নার ফু এলাকায়
হিমলুং হিমালে এই তুষারধসের ঘটনা
ঘটে। রোববার সকাল থেকে সরকারি
সংস্থা ও বেসরকারি উদ্ধারকারী
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার তৎপরতা
চালাচ্ছেন হিমালয়ান হলিডেজ ট্রেকিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিভূতি চাঁদ ঠাকুর।